
আঃ হান্নান :
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৭ নং চর নিলক্ষীয়া ইউনিয়নের শান্ত-নিভৃত মহজমপুর গ্রাম এবার রূপ নিচ্ছে এক আধ্যাত্মিক নগরীতে।
আগামী ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসা ও ইয়াতিমখানার ৩২তম বাৎসরিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল এবং হিফজ বিভাগের ছাত্রদের গৌরবময় দস্তারবন্দী (পাগড়ি প্রদান) অনুষ্ঠান।
মাহফিলের তারিখ ঘনিয়ে আসতেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আমেজ। ধর্মপ্রাণ মানুষজন অপেক্ষায় দিন গুনছে—নূর, ইলম ও বরকতের এক মহাসম্মেলনে যোগ দিতে।
🎇পবিত্র কোরআনের হাফেজ তৈরি—মহজমপুরের গর্ব
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও কোরআন হিফজে একের পর এক সাফল্য উপহার দিয়ে আসছে।
প্রতিবছর এখান থেকে ৫–৬ জন এতিম শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন শরীফ সহীহ ও শুদ্ধভাবে হিফজ সম্পন্ন করে, যা পুরো ময়মনসিংহবাসীর হৃদয়ে এনে দেয় অপরিসীম গর্ব ও আনন্দ।
কোরআনের হাফেজদের মাথায় যখন দস্তার (পাগড়ি) পরানো হবে সে দৃশ্য হবে মহজমপুরের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মুহূর্ত।
🎇 মাওলানা ফারুকুজ্জামান মহজমপুরী—যিনি বদলে দিয়েছেন এক গ্রামের ইসলামি সংস্কৃতির।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ফারুকুজ্জামান মহজমপুরী শুধু একজন শিক্ষাবিদ নন; তিনি একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দ্বীনি সমাজ নির্মাতা।
তাঁর হাত ধরে মহজমপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একের পর এক অনন্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠান—
মুহম্মদিয়া ঈদগাহ মাঠ,
মুহম্মাদিয়া জামিয়া শরীফ সুন্নতি জামে মসজিদ,
মোহাম্মাদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র,
আন্তর্জাতিক মহাপবিত্র সুন্নত প্রচার কেন্দ্র,
ধর্মীয় শিক্ষায় তাঁর এই অবদান ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে—এমনটাই বলছেন এলাকাবাসী।
মাহফিলে যোগ দিতে জনতার আগ্রহ জোয়ার
মাহফিলকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাই যেন এক অনন্য পরিবেশে আবদ্ধ।
দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-
“এ মাহফিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি ইলম, নূর, দোয়া ও রুহানিয়াতের সমাবেশ। পবিত্র কোরআনের হাফেজদের সম্মাননা, ওয়াজ-নসিহত এবং বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে হৃদয় হবে পরিশুদ্ধ।”
উপস্থিতি, নেক দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে এলাকাবাসীকে জানানো হয়েছে আন্তরিক দাওয়াত।